• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
হরিনাকুন্ডুতে ভ্রাম্যমান আদালতে এক জনের এক মাসের কারাদণ্ড মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ চক্রান্তের প্রতিবাদে ২৭ জুলাই ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক: পঞ্চগড়ে শিশুস্বর্গের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ডিজিটাল ট্রাফিক জরিমানা আদায়ে নতুন যুগের সূচনা, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত র‍্যাফেল ড্র-এর প্রথম পুরস্কার বিজয়ীর হাতে ফ্রিজ তুলে দিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. আব্দুল মজিদ ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ডাকাত সর্দারসহ আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য অপসারণের চেষ্টার প্রতিবাদে ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতি মধুখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ

ঝিনাইদহে রেললাইন আন্দোলন: অনলাইন প্রচারণা থেকে গণআন্দোলনের দীর্ঘ পথচলা, স্টেশনের নামকরণে কৃতী সন্তানের নামের দাবি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ / ৫৩ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলা শহরে রেললাইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে জনসচেতনতা তৈরির আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ। ওই দিন “ঝিনাইদহ রেললাইন চাই, দেখি কে কে চায়” নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন প্রচারণার সূচনা হয়। এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ইফাজ তানভীর মিন্টু। পরবর্তীতে অনলাইনভিত্তিক এই প্রচারণা ধীরে ধীরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
তবে সম্প্রতি জানা গেছে,  ঝিনাইদহ জেলা নাগরিক উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে ঝিনাইদহ পোস্ট অফিস মোড়ে রেললাইন দাবিতে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতে ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মালিতা, ভাষা সৈনিক নন্দ দুলাল শাহ,কামরুজ্জামান পিন্টু,নারী নেত্রী শরিফা খাতুনসহ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের মতে, এটিই ছিল ঝিনাইদহে রেললাইন দাবিতে অনুষ্ঠিত প্রথম মানববন্ধন।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই কলেজশিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ রেললাইন দাবিতে প্রতীকী অনশন পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঝিনাইদহে রেললাইন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট একটি বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকাস্থ ঝিনাইদহ জেলা সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ঝিনাইদহের সাগর-রুনি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম মোজাফফর হোসেন জোয়ার্দ্দার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান, সাবেক কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ, ঢাকা ওয়াসার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম মন্টু, এম এ লিমিটেডের পরিচালক এম এ লতিফ শাহরিয়ার জাহিদী প্রাঞ্জল, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ইফাজ তানভীর মিন্টু, মাহবুবসহ ঢাকায় অবস্থানরত ঝিনাইদহের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে ২০১৭ সালের ২২ জুলাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক খন্দকার হাফিজ ফারুককে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে অধ্যাপক এন. এম. শাহজালালকে সভাপতি এবং কামরুজ্জামান পিন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে “রেললাইন ও মেডিকেল কলেজ বাস্তবায়ন কমিটি” গঠন করা হয়।
২০১৮ সালে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ইফাজ তানভীর মিন্টু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেললাইন আন্দোলনের প্রতীকী ছবি ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা দেন, ঝিনাইদহে রেললাইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ওই প্রতীক বহাল রাখবেন। তিনি এখনও সেই প্রতীক ব্যবহার করে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চলেছেন।
এদিকে, সম্প্রতি জানা গেছে যে ২০১১ সালেও সুজন বিপ্লব, আবু তোয়াব অপু, আরিফুল ইসলাম মিটুল ও অর্পিতা সুলতানাসহ কয়েকজন রেললাইন দাবিতে কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন বলে দাবি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য লিখিত বা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে নয়, বরং একটি দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ওয়াজিউল হক শরিফ রেলপথ সচিবের কাছে ঝিনাইদহে রেললাইন বাস্তবায়নের দাবিতে আবেদনপত্র জমা দেন। এতে রাশেদ খান, মো. আব্দুল আলিম, হায়দার আলী, শহিদুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন স্বাক্ষর করেন।
এরপর ২০ এপ্রিল “ঝিনাইদহ রেললাইন বাস্তবায়ন পরিষদ”-এর নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে আব্দুল্লাহ সভাপতি, লিম্পা সাধারণ সম্পাদক এবং ইফাজ তানভীর মিন্টু যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২১ মে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে ফিরোজ আনোয়ার মাসুম, মো. আব্দুস সবুর, মো. জাহিদুল ইসলাম, লিম্পা, আব্দুল্লাহ, ইফাজ তানভীর মিন্টু, শাহিনসহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেন।
রেললাইন বাস্তবায়নের এই দীর্ঘ আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
স্টেশনের নামকরণে কৃতী সন্তানের নামের দাবি
এদিকে, ঝিনাইদহে রেলস্টেশন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় স্টেশনের নামকরণ নিয়েও মতামত জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, স্টেশনের নাম কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা আন্দোলনের নামে নয়; বরং ঝিনাইদহের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হয়ে থাকা একজন কৃতী সন্তানের নামে রাখা হোক।
সম্ভাব্য নাম হিসেবে তারা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, কে. পি. বসু, ইলা মিত্র, বাঘা যতীন, পাগলা কানাই, কবি গোলাম মোস্তফা, বীরপ্রতীক সিরাজুল ইসলাম এবং বশির উদ্দিন আহমদ মজমাদারসহ জেলার বিভিন্ন কৃতী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, একটি রেলস্টেশন শুধু যাত্রী পরিবহনের অবকাঠামো নয়; এটি একটি জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়েরও প্রতীক। তাই ঝিনাইদহ রেলস্টেশনের নাম এমন একজন কৃতী সন্তানের নামে হওয়া উচিত, যিনি সমগ্র জেলার গর্ব এবং যার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd