বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি সমারোহ। দুলছে ধানের শীষ, কৃষকের চোখে ছিল স্বপ্ন আর স্বস্তির ঝিলিক। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই দেখা দিয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা। টানা বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান এখন পড়েছে বড় ঝুঁকিতে।
গত তিন দিনের লাগাতার কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে পড়ে থাকা ধান মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। কৃষকরা দিন-রাত কাটাচ্ছেন উদ্বেগে—কখন আবার ঝড়-বৃষ্টি এসে সব পরিশ্রম ভেসে নেয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। তবে তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল।
কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী জানান, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির মাত্র ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান মাঠেই রয়েছে।
সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, “অনেক মাঠে এখনো ধান কাটা হয়নি। আবহাওয়ার এমন অবস্থা থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
একই চিত্র দেখা গেছে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায়ও। টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
মহেশপুর উপজেলার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা বছরের কষ্ট এখন পানিতে ভাসার আশঙ্কা। বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, আবার পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে।”
কোটচাঁদপুর উপজেলার কৃষক শওকত আলী জানান, “ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাতের ভয়, তার সঙ্গে শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”
জেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উপরই এখন নির্ভর করছে কৃষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।