• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
রামিসা হত্যা মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে- আইনমন্ত্রী আইসি জামিল আহমেদ যোগদানের পর বদলে গেছে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, ডাকাতির ঘটনা ছাড়াই পার হলো টানা দুই ঈদ বিবাহিত- অবিবাহিত ফুটবল ম্যাচ,চ্যাম্পিয়ন অবিবাহিতরা ঝিনাইদহে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ ঝিনাইদহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেজুর গাছ মার্কায় শ্রমিকদের জোয়ার, ভোটের মাঠে এগিয়ে মুক্তার শাহ্ দুঃসময়ের কাণ্ডারী, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণ সমাজসেবক মনির চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এনসিপিরি আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি-রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহে বৈরী আবহাওয়া: পাকা বোরো ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক

বছির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৮১ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি সমারোহ। দুলছে ধানের শীষ, কৃষকের চোখে ছিল স্বপ্ন আর স্বস্তির ঝিলিক। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই দেখা দিয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা। টানা বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান এখন পড়েছে বড় ঝুঁকিতে।

গত তিন দিনের লাগাতার কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে পড়ে থাকা ধান মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। কৃষকরা দিন-রাত কাটাচ্ছেন উদ্বেগে—কখন আবার ঝড়-বৃষ্টি এসে সব পরিশ্রম ভেসে নেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। তবে তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল।

কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে প্রতিকূল আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-এ-নবী জানান, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, যা মোট আবাদি জমির মাত্র ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান মাঠেই রয়েছে।

সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, “অনেক মাঠে এখনো ধান কাটা হয়নি। আবহাওয়ার এমন অবস্থা থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

একই চিত্র দেখা গেছে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায়ও। টানা বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মহেশপুর উপজেলার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা বছরের কষ্ট এখন পানিতে ভাসার আশঙ্কা। বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, আবার পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে।”

কোটচাঁদপুর উপজেলার কৃষক শওকত আলী জানান, “ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাতের ভয়, তার সঙ্গে শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

জেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার উপরই এখন নির্ভর করছে কৃষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd