সাইফুল ইসলাম নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত রাতে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া এলাকা ও জুড়ী বাজারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর বাসার সামনে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের অভিযোগ, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, শিবির নেতা তারেক, আব্দুল্লাহ ও এনসিপির একজন নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, “বিএনপি প্রার্থীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে।”
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, “নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমিসহ আমাদের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন শিলুয়া এলাকায় যান এবং সেখানে টাকা বিতরণের চেষ্টা করেন। আমার নেতাকর্মীরা বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে কয়েকজন আমার বাসার সামনে এসে হামলার চেষ্টা করে। বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করেছি।”
ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাতে জামায়াত নেতাকর্মীরা জুড়ী থানার সামনে অবরোধ করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ দস্তেগীর বলেন, “দুঃখজনক এই ঘটনায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আগামীকাল ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ শুরু হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।