• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
হরিনাকুন্ডুতে ভ্রাম্যমান আদালতে এক জনের এক মাসের কারাদণ্ড মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণ চক্রান্তের প্রতিবাদে ২৭ জুলাই ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক: পঞ্চগড়ে শিশুস্বর্গের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ডিজিটাল ট্রাফিক জরিমানা আদায়ে নতুন যুগের সূচনা, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত র‍্যাফেল ড্র-এর প্রথম পুরস্কার বিজয়ীর হাতে ফ্রিজ তুলে দিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. আব্দুল মজিদ ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ডাকাত সর্দারসহ আন্তঃবিভাগীয় ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য অপসারণের চেষ্টার প্রতিবাদে ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতি মধুখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ

ইরানে রাজতন্ত্র, ১৯৭৯’র বিপ্লব ও চলমান বিক্ষোভ -ইমতিয়াজ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩৭৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

 

ইরানে চলছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভের তীব্রতা দিনকে দিন বাড়ছে। ভৌগলিক অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে ইরানের যে কোন বিষয়ের ঘটনায় বিশ্বচোখ দৃষ্টি ফেলে। আর বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভের কারণে সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টি যেন ইরানের দিকে। বর্তমান প্রেক্ষিতে ইরানের রাজতন্ত্র, বিপ্লব ও চলমান বিক্ষোভ সংক্ষিপ্তারে হলেও আলোচনার দাবী রাখে। কারণ কোনটিই বিচ্ছিন্ন নয়। একটির সাথে আরেকটির যোগসূত্র রয়েছে।

১৯৭৯ সালে মোহাম্মদ আয়াতুল্লা রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইরানি বিপ্লব সংঘটিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন রাজবংশের দ্বারা ইরান শাসিত হয়েছে। সর্বশেষ দুটি রাজবংশ ছিল কাজার ও পাহলভী। কাজার রাজবংশ ১৭৮৯ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ইরানের মসনদে আসীন ছিল। কাজাররা ছিল তুর্কি বংশদ্ভুত। আগা মোহাম্মদ খান ছিলেন কাজার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা, যার সর্বশেষ শাসক ছিলেন আহমদ শাহ কাজার। কাজার রাজবংশের বিদায় ঘন্টা বাঁজতে থাকে ১৯২০ সাল থেকে। অবশেষে চূড়ান্ত বেঁজে উঠে ১৯২৫ সালে। রেজা শাহ পাহলভী কাজারদের ক্ষমতাচ্যুত করে ১৫ ডিসেম্বরে আসীন হন ইরানের মসনদে। তিনিও রাজতন্ত্রের পথে হাঁটেন। প্রতিষ্ঠা করেন পাহলভী রাজবংশ। রেজা শাহ পাহলভী ১৯৪১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মসনদে আসীন থাকেন। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ঐ সময়ে ইরানে অবস্থানরত সোভিয়েত-যুক্তরাজ্যের মিত্রশক্তি রেজা শাহ পাহলভীকে তার পুত্র মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর কাছে জোরপূর্বক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করে এবং তাকে নির্বাসনে পাঠায়। ১৯৪১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে তার পুত্র মোহাম্মদ রেজা পাহলভি শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরান শাসন করেন। পাহলভী রাজবংশ ইরানকে পশ্চিমা ধাঁচের আধুনিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত করলেও তাদের স্বৈরাচারী শাসন, ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন এবং পশ্চিমা প্রভাবের কারণে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত হয়। পিতার মত মোহাম্মদ রেজা পাহলভী নির্বাসিত জীবন যাপন করেন। মিশরের কায়রোতে তার দেহাবসান ঘটে।

১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে শিয়া ধর্মীয় গোষ্ঠীদের দ্বারা বিপ্লব সংঘটিত হলে মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভী ক্ষমতাচ্যুত হন। এর ফলে ইরানে ২৫০০ বছরের পুরনো পারসিক রাজতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটে এবং ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিপ্লবের পর খোমেনী ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সংবিধান মোতাবেক জাতির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বহনকারী সর্বোচ্চ নেতার পদে অধিষ্ঠিত হন এবং আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। বিপ্লবের পর হতে অদ্যাবধি ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে শাসিত হচ্ছে। প্রত্যাখান করে শাহের পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থা। পশ্চিম নয়, পূর্ব নয় রক্ষণশীল নিজস্ব ইরানী জাতীয়তাবাদী ইসলামী ভাবধারা তারা গ্রহণ করে। ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর হতে ইরান পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূলে পরিণত হয়। সামরিক বাণিজ্যিক অবরোধের সম্মূখীন হয়। যুদ্ধ-বিগ্রহে, হামলা পাল্টা হামলার মুখোমুখি হতে হয়, যা আজও দৃশ্যমান।

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর রক্ষণশীল শাসনের কারণে ইরানের জনগণের একটি অংশের মাঝে দীর্ঘ বৎসর যাবত ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। বিদেশী শক্তিও মাঝেমধ্যে সুযোগ বুঝে তাতে রশদ যোগান দেয়। শাসকগোষ্ঠীও কঠোরভাবে দমন করে সেসব আন্দোলন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ইরানে চলছে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, যা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন হতাহতের সংবাদ ভেসে উঠছে বিশ্ব গণমাধ্যমে। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী বিশেষ করে আমেরিকার ট্রাম্প সরকার সরাসরি আন্দোলনকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

গতবছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারের প্রতি ব্যাপক গণঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিভিন্ন শহরে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে এই গণবিক্ষোভের কারণ ছিল অতি মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানী মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়ন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে এবং ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক শাসনের অবসানের দাবি সামনে চলে এসেছে। তেহরানের দোকানদার ও বাজারের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সারাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে যুক্ত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা স্বৈরশাসকের মৃত্যু, পাহলভী ফিরে আসবে, শাহ দীর্ঘজীবী হোন, এ ধরণের শ্লোগান দিচ্ছে এবং এসব স্লোগানের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক দাবিও তুলে ধরেছে, যা বর্তমানে সরকারের পতনের দাবীতে রুপ নিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপনকারী পাহলভী রাজবংশের সর্বশেষ শাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর পুত্র রেজা পাহলভী দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন, বিক্ষোভকারীদের শাহকেন্দ্রিক শ্লোগান, রেজা পাহলভীর দেশে ফেরার ঘোষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের চূড়ান্ত সমর্থন রয়েছে। ইরান সরকারও বিক্ষোভকারীদের প্রতি দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দিনদিন সহিংস হচ্ছে বিক্ষোভ, ভেসে উঠছে ধ্বংসচিত্র, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এখন দেখার বিষয় ইরানের পরিস্থিতি চূড়ান্তরুপে কোন্ দিকে মোড় নেয়।

লেখক পরিচিতি: সভাপতি, সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ, ময়মনসিংহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd