বসির আহাম্মেদ,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠ জুড়ে যেন বিছানো রয়েছে হলুদ গালিচা। রঙের পাশাপাশি সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধ মাতিয়ে তুলেছে পুরো এলাকা। রঙ আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।
মিয়াকুন্ডু গ্রামের মতই ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলে ফুলে ভরে গেছে বিভিন্ন উপজেলার মাঠ। সেই সাথে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ১৩ হাজার ২’শ ২৯ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ২’শ ৩৫ মেট্টিকটন সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকা আর কৃষি বিভাগের প্রণোদনা দেওয়ায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। সেই সাথে পরিমিত পরিচর্যার কারণে ফলনও ভালো আশা করছেন তারা।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের কৃষক আনু মন্ডল বলেন, ‘এবার ঝড় বৃষ্টি হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।’
একই গ্রামের কৃষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, সামনে কোনো প্রাকৃতি দুর্যোগ না হলে ৪৬ শতকের বিঘায় আমরা ১০ থেকে ১১ মন ফলন পাব বলে আশা করছি।’
কৃষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘এবার সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। যে কারণে এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। তেলের যে দাম কিনে খাওয়ার মতো নেই। এবার সরিষার ফলন হলে সয়াবিন তেলের উপর আমরা আর নির্ভর করব না। আমরা এবার নিজেদের জমির উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই সারা বছর চলবে। সরিষা আবাদে আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছি।’
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের কৃষক আকবর আলী জানান, ‘এবার সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। যে কারণে আমাদের এলাকাতে এবার সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নূর-এ-নবী বলেন, ‘ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর কৃষকদের পর্যাপ্ত সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ফলন ভালো পেতে আমরা নিয়মিত কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সাথে সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষ করাচ্ছি। এতে যেমন সরিষার ফলন বাড়ছে তেমন মধু উৎপাদন হচ্ছে। আমরা এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা পাব বলে আশা করছি।’