• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিকতা নেশা নয়; পেশা হিসেবে নিতে হবে-আহমেদ আবু জাফর তেঁতুলিয়ায় ডিসির বক্তব্য ভিডিও করতে নিষেধ, সাংবাদিকদের অনুষ্ঠান বয়কট ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় ঝিনাইদহে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া উৎসব অনুষ্ঠিত তাহেরহুদায় লালন ভূমি থিয়েটারের বর্ণাঢ্য আয়োজন: শেকড়ের টানে মেতেছে হাজারো মানুষ কালীগঞ্জে ধরা খেল ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা! তেল নিতে গিয়েই ফাঁস দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু। “সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন ও “১-৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ”কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ভোটের লড়াই জমে উঠেছে -শ্রমিকদের ভালোবাসা এগিয়ে মনিরুল জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো হচ্ছে -ভোলায় পার্থ 

কম্বোডিয়ায় ভাগ্য পাল্টাতে গিয়ে লাশ হলেন সোহাগ, লাশের অপেক্ষায় পরিবার

প্রসেনজিৎ সাহা ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ / ৯১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রসেনজিৎ সাহা ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
কম্বোডিয়ায় গিয়ে দালালের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ঝিনাইদহের সোহাগ মোল্লা নামে এক যুবক। মৃত্যুর প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মরদেহ ফেরত আসেনি বাড়িতে। ফোন বন্ধ দালালের, পলাতক রয়েছে পরিবারের সদস্যরাও। এখন কিভাবে সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবেন তার কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না পরিবার। দ্রুত লাশ ফেরত ও দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।

মায়ের এ কান্না আদরের সন্তানকে চিরদিনের মতো হারানোর। সন্তানের ছবিই যেন এই মায়ের একমাত্র অবলম্বন। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন দূর প্রবাস কম্বোডিয়ায়। ভাল কাজ আর মোটা অঙ্কের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল দালালের। কিন্তু তা ভাগ্যে জোটেনি সোহাগের। দিনের পর দিন মানবপাচারকারীদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ায় জীবন প্রদীপ নিভে গেছে তার। সেইসাথে খালি হয়েছে এই মায়ের বুক। সন্তানকে শেষবারের মত ছুয়ে দেখার ভাগ্যও হয়নি এই মায়ের। মৃত্যুর প্রায় একসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মরদেহ ফেরত আসেনি বাড়িতে। দালালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। কোথায় কিভাবো, কোন অবস্থায় পড়ে আছে আদরের সন্তান সোহাগের মরদেহ তাও জানেননা তারা।

মানবপাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো সোহাগ মোল্লা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বাহির রয়েড়া গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে দালাল ক্ষুদ্র রয়েড়া গ্রামের জামিরুল শেখের ছেলে রয়েল শেখ।

সোহাগের পরিবার জানায়, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত রয়েল নিজেকে বৈধ কর্মসংস্থানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দরিদ্র যুবকদের বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। সেই ফাঁদে পড়ে সোহাগ। দেড় লাখ টাকা মাসিক বেতনের আশ্বাস দিয়ে ৬ মাস  আগে সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এনজিও, সুদ ও আতœীয়দের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে টাকা দেওয়া হয় দালাল রয়েলকে। তবে কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই সোহাগকে জিম্মি করে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকা-ে বাধ্য করে রয়েল। দুইমাস দেওয়া হয় সামান্য বেতন। প্রতিবাদ করলে শুরু হয় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। বন্ধ করে দেওয়া হয় খাবার, চিকিৎসা। একটানা ১০ থেকে ১৫ দিন খাবার না দিয়ে শুধু পানি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার হয় তাকে। নির্যাতনের মাত্রা সহ্যসীমা ছাড়ালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহাগ। যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গত ১লা জানুয়ারি কম্বোডিয়ায় জীবন প্রদীপ নিভে যায় সোহাগের। এরপর থেকেই দালাল রয়েল ফোন বন্ধ করে ফেলে। গা ঢাকা দেয় তার পরিবারের লোকজনও। এখন কিভাবে সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবেন তার কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না এই পরিবার।
কম্বোডিয়ায় নিহত সোহাগের মা সোহাগী খাতুন জানান, কিভাবে আমার সন্তানের মরদেহ ফেরত আনবো তার কোন কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সন্তানের সুখের আশায় এনজিও, সুদ ও আতœীয়দের কাছ থেকে টাকা জোগাড় করে টাকা দেওয়া হয় দালাল রয়েলকে। তার পরও দালাল রয়েল আমার কলিজার সন্তানকে মেড়ে ফেললো। আমি আইনের মাধ্যমে দালালের মৃতুদন্ড চায়।

নিহত সোহাগের চাচাতো ভাই ও কম্বোডিয়া ফেরত ইব্রাহিম মোল্লা জানান, দালাল রয়েলের খপ্পরে পড়ে সোহাগের সাথে একই ফ্লাইটে কম্বোডিয়া গিয়েছিলাম আমি। সেখানে আমাকেও জিম্মি করে করা হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি আমাকে সমকামিতায়ও বাধ্য করা হয়। রাজি না হওয়ায় মারধর, ইনজেকশন পুশ সহ অমানবিক নির্যাতন করা হয়। নানা কৌশলে সেখান থেকে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিওে আসি। তবে শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছি আমি।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, আমরা দালাল রয়েলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তবে তাকে আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের মানবপাচারে জড়াতে সাহস না পায়।

এদিকে অভিযুক্ত দালাল রয়েলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত দালাল রয়েলের দাদি জাহানারা বেগম জানান, ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে রয়েলের বাবা ও মা। প্রাণের ভয়ে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি এই নারীর।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, এঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কেউ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রাহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd