নওয়াব আলী মাগুরাঃ
মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সাকের হোসেন (৩৬) হত্যাকাণ্ড এবং সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় দুর্ধর্ষ স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক দুটি মামলার তদন্তে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মোট ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলির আলামত এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মাগুরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর এলাকা থেকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাস থেকে মো. মজিবর রহমান (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে নামিয়ে নেয়। পরে তাঁকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১৫০ ভরি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মজিবর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা নম্বর-৬৩, দণ্ডবিধির ১৭০/৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, গত ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪৯। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারাসহ অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারা যুক্ত করা হয়।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মাগুরা মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান পিপিএমের নেতৃত্বে পৃথক দুটি মামলার তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুটি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাতজনকে। তাঁরা হলেন—মো. জুয়েল হোসেন (৪৭), তৌকির আহমেদ (২৫), মো. ফরিদ মন্ডল (৫৯), মো. মিল্টন মোল্যা (৩৫), মারুফা আক্তার (৩২), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও মো. মারুফ হোসেন (৪৪)। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।
এ মামলায় উদ্ধার করা হয়েছে একটি তেজাবি কাটা স্বর্ণের বার, যার ওজন ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি বা ১১০ দশমিক ৭৭ গ্রাম। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল—ইয়ামাহা এক্সএসআর ও পালসার এবং একটি সিলভার রঙের টয়োটা ভিটজ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
সাকের হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। তাঁরা হলেন—রনি শিকদার (৩৮), শামীমা তাবাসসুম (৩১), অনিমেষ মজুমদার (৫৫), মো. মারুফ হোসেন (৪৪), মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) ও বশির আলী (৩৫)।
এ মামলার তদন্তে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বুলেট, একটি খালি কার্তুজ এবং পাঁচটি স্বর্ণের বার। এসব স্বর্ণের মোট ওজন ৫১ ভরি ৬০৫ দশমিক ৬৯ গ্রাম।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৃথক দুটি মামলায় সর্বমোট ৬১ ভরি ৬ আনা বা ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। দুই মামলার তদন্তে মো. গোলাম জাহিদ (৪৫) উভয় ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।