• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
রামিসা হত্যা মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে- আইনমন্ত্রী আইসি জামিল আহমেদ যোগদানের পর বদলে গেছে আইনশৃঙ্খলার চিত্র, ডাকাতির ঘটনা ছাড়াই পার হলো টানা দুই ঈদ বিবাহিত- অবিবাহিত ফুটবল ম্যাচ,চ্যাম্পিয়ন অবিবাহিতরা ঝিনাইদহে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ ঝিনাইদহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেজুর গাছ মার্কায় শ্রমিকদের জোয়ার, ভোটের মাঠে এগিয়ে মুক্তার শাহ্ দুঃসময়ের কাণ্ডারী, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণ সমাজসেবক মনির চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এনসিপিরি আয়ের প্রধান উৎস চাঁদাবাজি-রাশেদ খাঁন

মাতৃভাষা এবং এর সার্থকতা -ইমতিয়াজ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১২৮ Time View
Update : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। প্রতিটি জাতিরই রয়েছে নিজস্ব ভাষা, যা মাতৃভাষা হিসেবে গণ্য। মায়ের গর্ভ থেকে ভুমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথেই মানব সন্তান তার মাতৃভাষা পেয়ে থাকে। মাতৃভাষাতেই আস্তে আস্তে ভাব প্রকাশ করতে শিখে।

পৃথিবীর অন্যান্য জাতির মত আমাদেরও রয়েছে মাতৃভাষা। আবার অন্যান্য জাতি থেকে মাতৃভাষার বিষয়ে আমাদের আছে ভিন্নতা। কারণ, আমাদের রয়েছে মাতৃভাষা রক্ষার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে উদ্ভট দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে হাজার হাজার মাইল দূরত্বের দুটি ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ভিন্ন সংস্কৃতি, কৃষ্টি, মানসিকতার জাতির সংমিশ্রনে পাকিস্তানের উদ্ভবের পর হতেই পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে বাঙালী জাতির উপর। প্রথমেই আঘাত হানে বাঙালী জাতির মাতৃভাষার উপর। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র করতে অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তাই মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার জন্য দিতে হয়েছে মূল্যবান প্রাণ। ১৯৫২ সালে রক্তে রঞ্জিত হয় পিচঢালা ঢাকার রাজপথ। প্রাণের বিনিময়ে রচিত হয়েছে মাতৃভাষা রক্ষার ইতিহাস। এখানেই অন্যান্য জাতি থেকে মাতৃভাষার প্রশ্নে আমাদের রয়েছে ভিন্নতা।

মাতৃভাষার অন্তর্নিহিত সার্থকতা কোথায়? সার্থকতা সর্বত্র এর যথাযথ প্রয়োগে। আমাদের মাতৃভাষাকে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র যথাযথ প্রয়োগেই এর সর্বোচ্চ সার্থকতা নিহিত। নাগরিক হিসেবে প্রাত্যহিক জীবনে ব্যক্তিকেও যেমন মাতৃভাষা চর্চার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে তেমনি রাষ্ট্রযন্ত্রকেও পদক্ষেপ নিতে হবে। দপ্তর, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সকল দাপ্তরিক কাজে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেশের আভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক পত্রালাপ শতভাগ বাংলায় যেন করা হয়। সকল নথিপত্র যেন বাংলায় লিপিবদ্ধ হয়। দাপ্তরিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে শতভাগ বাংলা ব্যবহার করার লক্ষে ১৯৮৭ সালে আইন জারী করা হয়েছে, যা
‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ নামে চিহ্নিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদের বিধানকে পূর্ণরূপে কার্যকর করার উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালের ০৮ মার্চ তারিখে প্রণীত আইনটি ১৯৮৭ সালের ২ং আইন (বাংলাদেশ কোড, ভলিউম ২৭)। এই আইন প্রণয়নের পর থেকে জাতীয় সংসদের সকল আইন বাংলা ভাষায় প্রণীত হচ্ছে। এই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল জবাব ও অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে এবং যদি কোন ব্যক্তি বাংলাভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন তা হলে সে আবেদন বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে। যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবেন এবং তার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। মাতৃভাষা বাংলার সর্বোচ্চ প্রয়োগের নিমিত্তে ১৯৮৭ সালে প্রণীত আইনটির যথাযথ প্রয়োগ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কেবলমাত্র বৈদেশিক যোগাযোগের পত্রালাপে অন্যভাষা ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিজ ভাষাকে অবহেলা করে কখনো প্রকৃত অর্থে জাতীয় উৎকর্ষতা লাভ করা যায় না। কারণ, মাতৃভাষা হলো জাতির আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। তাই আমাদের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা বাংলা ভাষা সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রয়োগ অতীব জরুরি।

লেখক পরিচিতি: সভাপতি, সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ, ময়মনসিংহ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd