সাইফুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতিতে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছেন সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি শুধু এই আসনের নয়, বরং জেলার চারটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে তাঁর অংশগ্রহণ নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে গভীর আগ্রহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল।
‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে মাঠে সক্রিয় তাসনিম চৌধুরী প্রচলিত নির্বাচনী আড়ম্বর ও ব্যয়বহুল প্রদর্শনীর বিপরীতে এক ভিন্নধর্মী, সংযত ও জনগণনির্ভর প্রচারণা কৌশল গ্রহণ করেছেন। বিশাল গাড়িবহর কিংবা বিলাসী যানবাহনের পরিবর্তে একটি ছোট গাড়ি ও সীমিত কর্মীবাহিনী নিয়ে তিনি দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। বাজার, রাস্তার পাশ, পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে তিনি নিজ হাতে কাঁচি মার্কার লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও গতিশীল করতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও মাঠে নেমেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কুলাউড়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা, যেখানে জোটপ্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, যা প্রচারণাকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করছে।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে পাঁচজন দলীয় এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রায় ২০টির অধিক চা-বাগান ও কয়েক হাজার চা শ্রমিক অধ্যুষিত এই আসনে কয়েক লক্ষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। অতীতে কোনো স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করেই সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী বলেন,
“আমাদের দল গণমানুষের মৌলিক দাবি বাস্তবায়ন ও অধিকার আদায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদই সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র—এই উপলব্ধি থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব, কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকব এবং বয়স্ক ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেব। একজন নারী হিসেবে কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি চা-বাগানের নারী শ্রমিকসহ সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক নারীদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাসনিম চৌধুরীর এই জনসম্পৃক্ত, আদর্শনিষ্ঠ ও ব্যতিক্রমী প্রচারণা কুলাউড়ার ভোটারদের মধ্যে নৈতিক রাজনীতির প্রতি নতুন প্রত্যাশা জাগাচ্ছে। নারী নেতৃত্ব, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান এই নির্বাচনী মাঠে তাঁকে আলাদা পরিচয়ে চিহ্নিত করছে।