মোঃ সুরুজ বাঙালী,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৭নং মহারাজপুর ইউনিয়নের কুলবাড়িয়া গ্রামের ‘গেঁড়া মাথা’ মাঠ এখন ধ্বংসের মুখে। শত শত বিঘা উর্বর ধানি জমি ভেকু মেশিন দিয়ে খুঁড়ে বানানো হচ্ছে বাণিজ্যিক মৎস্য প্রজেক্ট। সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও কৃষি বিভাগের কঠোর নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন কুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত কানু অধিকারীর ছেলে বাদল অধিকারী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতক আবাদি জমি দখল করে পুকুর খননের কাজ চলছে।
কৃষকের হাহাকার ও পরিবেশের বিপর্যয়
মাঠের আশেপাশের একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভের সাথে জানান, “আমাদের এই মাঠটি একসময় ফসলে ভরা থাকত। কিন্তু গত কয়েক বছরে একের পর এক ধানি জমি কেটে পুকুর করায় মাঠের চরিত্রই বদলে গেছে। আবাদি জমি এভাবে শেষ হয়ে গেলে আমরা চাষবাস করব কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই এলাকাটি খাদ্যাভাব ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।”
অভিযুক্ত বাদল অধিকারীর বাড়িতে গিয়ে ধানি জমিতে পুকুর খননের বৈধ অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “আমার কাছে সরকারি কোনো কাগজপত্র বা পারমিশন নেই।” তবে এই অবৈধ কাজের পেছনে তিনি দোহাই দিলেন ভেকু মালিকের। বাদল অধিকারী বলেন, “পাশের গ্রামের ভেকু মালিক সিরাজুল ইসলাম আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, পুকুর কাটতে কোনো সরকারি কাগজ বা অনুমতির প্রয়োজন নেই, তিনিই সব ম্যানেজ করবেন।”
এদিকে ভেকু মালিক সিরাজুলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো প্রকার বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। উল্টো দম্ভ করে বলেন, “জমির মালিকের জমি, সে পুকুর কাটবে, এতে আপনাদের বা প্রশাসনের কী সমস্যা? আমি আমার মেশিনে মাটি কাটার কাজ করছি মাত্র।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “কৃষিজমি রক্ষায় সরকার অত্যন্ত কঠোর। অনুমতি ছাড়া আবাদি জমিতে পুকুর খনন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া মাত্রই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ওই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে ধানি জমিতে পুকুর খনন করলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ওই অঞ্চলটি কৃষিশূন্য হয়ে পড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয় সচেতন মহল এখন দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন এবং এই অবৈধ খননকাজ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।