দালাল ছাড়া সেবা মেলে না—অভিযোগ ভুক্তভোগীদের, তদন্তের আশ্বাস উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনার দাখিলা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ভূমি কর্মকর্তা রাজকুমার ও অফিস সহকারী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭৫ টাকা করে দুটি খাজনার দাখিলার বিপরীতে এক ভূমি মালিকের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে ধাওড়া গ্রামের লিমন জোয়ার্দার অভিযোগ করেন, জমির খাজনা দিতে ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহকারী আশরাফুল ইসলাম তাঁর কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ভূমি কর্মকর্তা রাজকুমারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ১৭৫ টাকা করে দুটি খাজনার দাখিলার রসিদ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
লিমন জোয়ার্দারের অভিযোগ, ৩৫০ টাকার দাখিলার বিপরীতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অজুহাত দেখান। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। দালালের সহযোগিতা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কাজ করানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের সেবাপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা রাজকুমার ও অফিস সহকারী আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁরা নীরব থাকেন বলে জানান প্রতিবেদক। এ সময় সাংবাদিককে টাকা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা দেবাশীষ অধিকারী জানান, ভুক্তভোগী তাঁকে বিষয়টি জানালে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।