নওয়াব আলী, মাগুরাঃ
‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে মাগুরাসহ সারা দেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব ডাক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ও কার্যক্রম:
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রধান ডাকঘরগুলোতে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী এবং ডাকসেবা মেলার আয়োজন করা হয়। ডাকসেবা সপ্তাহ চলাকালে সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ব্যতীত অন্যান্য সাধারণ ডাকসেবা আরও জোরদার করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি মাগুরাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া এবং দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা সদরে র্যালি, আলোচনা সভা, কেক কাটা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আধুনিকায়ন ও সময়োপযোগী উদ্যোগ:
ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক লজিস্টিক সার্ভিসে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়:
ই-কমার্স ও স্পিড পোস্ট: অনলাইন কেনাকাটা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) দ্রুত এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পৌঁছে দিতে ‘স্পিড পোস্ট’ ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং: ই-কমার্স পণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
কৃষিপণ্য পরিবহন ও ফুলফিলমেন্ট সেন্টার: প্রান্তিক কৃষক ও ফল চাষীদের পণ্য সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা এবং ডাকঘরে ‘ফুলফিলমেন্ট সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের আকুতি:
দিবসটি পালনকালে স্থানীয় শাখা ডাকঘরের কর্মচারীদের অবহেলিত ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র ফুটে ওঠে। মাগুরার শালিখা উপজেলার বরইচারা শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার সাধন রায়, বুনাগাতী শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রোস্তম আলী মোল্যা এবং হাজরাহাটি শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মিলোন লাহেড়ি জানান, বর্তমানে সারা দেশে শাখা ডাকঘরে প্রায় ২৩ হাজার কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও তারা মাসে মাত্র ৪,০০০ থেকে ৪,৪৬০ টাকা সম্মানি ভাতা পান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে এ সামান্য ভাতায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনঃনির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান তারা।