তানভীর সরদারঃ
সব জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন ঝিনাইদহের আলোচিত যুবক মিশন আচার্য।
বুধবার সকালে ঝিনাইদহে মিশন আচার্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে মিশন আচার্যের। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মিশন আচার্য ঝিনাইদহ পৌর শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। নিজের নামে কোনো স্থায়ী ভিটেবাড়ি বা জমি না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে জটিলতায় পড়েন তিনি।
জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপেই সফলভাবে উত্তীর্ণ হন মিশন। নিয়োগের অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশি ভেরিফিকেশনের সময় তার স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর ফলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের নজরে আসে। তিনি মিশন আচার্যের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরেও আলোচনা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিশন আচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা হয়। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নিয়োগপত্র পাওয়ার পর মিশন আচার্য বলেন, “শিক্ষক হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। পরীক্ষার সব ধাপ পার হওয়ার পরও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় যখন নিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় আজ নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় মিশন আচার্যের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।