মুহাম্মদ এমরান, লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুই বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বাঁশখাইল্লাঝীরি পাড়ায়। অভিযুক্ত বাঁশখাইল্লাঝীরি পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে মো. নাছির। ভুক্তভোগী ওই নারী তিন সন্তানের জননী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ( ১১ জুন) রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত নাছিরের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে লামা থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, গত বুধবার (১০ জুন) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি বাড়ির পাশের বিলে তরকারি কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় মোঃ নাছির হঠাৎ পিছন থেকে তাকে জাপটে ধরেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধর্ষণে বাধা দিলে অভিযুক্ত নাছির একটি ধারালো ছুরি বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ওই নারী জীবন বাঁচাতে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত তার পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার ২ বছরের শিশুসন্তানকে অপহরণেরও চেষ্টা চালায় মো. নাছির।পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাছির এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী আরো বলেন, “আমি একজন অসহায় নারী। আমার তিনটি বাচ্চা রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমরা চরম ভয়ের মধ্যে আছি। গত রমজানে আমার স্বামী গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়। এরপর থেকে নাছির কয়েকবার আমার বাড়িতে ঢুকেছে। বাড়িতে লোকজন থাকায় কিছু করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আপ্রুসিং মার্মা বলেন, নাছির ছেলেটা অনেক খারাপ। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমিও কয়েকবার বিচার করেছি। তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমেদ জানায়, সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বের হলে অভিযুক্ত নাছির এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে ভুক্তভোগী নারীকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। ঘটনার পরপর পালিয়ে যাওয়ায় অভিযুক্ত নাছিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত নাছিরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।