তানভীর সরদারঃ
ঝিনাইদহে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার সকালে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিনিধি দলটি প্রথমে ঝিনাইদহ শহরের চুটলিয়া মোড় সংলগ্ন মাঠ, মেডিকেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ম্যাটস) এলাকা, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে ক্যাডেট কলেজের উত্তর দিকের খাস জমি এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ একর খাস জমি পরিদর্শন করেন। পরে তারা শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজার সংলগ্ন কুষ্টিয়া সড়কের পশ্চিম পাশে একটি সম্ভাব্য স্থানও ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন দলে ছিলেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মাজহারুল ইসলাম, সদস্য সচিব উপল সিজার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলরুবা জেবা।
এ সময় ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান, ডা. হাসানুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য উপযুক্ত ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর স্থান নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এ পরিদর্শন পরিচালিত হয়। জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, জেলা শহর সংলগ্ন এলাকায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠন আন্দোলন, মানববন্ধন ও গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে আসছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলা সদর ও শহর সংলগ্ন চুটলিয়া মোড়, ম্যাটস সংলগ্ন এলাকা অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাস জমির মতো যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন স্থানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হোক।
ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, “গাড়াগঞ্জ এলাকার প্রস্তাবিত স্থানটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে খুব কাছাকাছি। সেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে ঝিনাইদহ জেলার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই জেলার সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় জেলা শহর সংলগ্ন উপযুক্ত স্থানে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।”
পরিদর্শন শেষে জেলাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন সকলের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।